টানা সপ্তম মাসের মতো সেপ্টেম্বরেও মালয়েশিয়ায় পাম অয়েলের মজুদ বেড়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত মালয়েশিয়ান পাম অয়েল বোর্ডের (এমপিওবি) ডাটা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেশটিতে এ সময় ভোজ্যতেলটির উৎপাদন কিছুটা হ্রাস সত্ত্বেও স্থানীয় চাহিদা কমে যাওয়া মজুদ বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া সেপ্টেম্বরে পাম অয়েলের আমদানি বৃদ্ধিও এ সময় দেশটিতে মজুদ বাড়ার অন্যতম কারণ। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ ও রয়টার্স।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাম অয়েল উৎপাদনকারী দেশ মালয়েশিয়া। সেপ্টেম্বরে দেশটিতে ভোজ্যতেলটির মজুদ আগের মাসের তুলনায় ৭ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ লাখ ৬০ হাজার টনে।
এমপিওবির দেয়া তথ্যানুযায়ী, সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়ায় অপরিশোধিত পাম অয়েল উৎপাদন দশমিক ৭৩ শতাংশ কমে ১৮ লাখ ৪০ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে। এ সময় দেশটি থেকে রফতানি ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ১৪ লাখ ৩০ হাজার টনে, যা গত বছরের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ।
এর আগে রয়টার্সের এক জরিপে সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়ায় পাম অয়েলের মজুদ ২১ লাখ ৫০ হাজার টন এবং ১৭ লাখ ৯০ হাজার টন উৎপাদনের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। এছাড়া এ সময় ১৪ লাখ ৩০ হাজার টন রফতানি হতে পারে বলে জানানো হয়েছিল।
মুম্বাইভিত্তিক ভেজিটেবল অয়েল ব্রোকার কোম্পানি সানভিন গ্রুপের গবেষণা বিভাগের প্রধান অনিলকুমার বাগানি বলেন, ‘এমপিওবির তথ্য বাজারে কিছুটা বিস্ময় তৈরি করেছে। কারণ মজুদের পরিমাণ প্রত্যাশার তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি। এটি সরবরাহ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতে স্বল্পমেয়াদে দামের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।’
তিনি আরো বলেন, ‘মালয়েশিয়া থেকে পাম অয়েল রফতানি কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু তা আগের বছরের তুলনায় এখনো কম। আগামী দিনগুলোয় বাজারের পণ্যটির ওঠানামা নির্ভর করবে জৈব জ্বালানি নীতিমালা ও ভবিষ্যৎ চাহিদার সূচকের ওপর।’
অন্যদিকে নয়াদিল্লিভিত্তিক একটি বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের এক ডিলার জানিয়েছেন, অক্টোবরে মালয়েশিয়ায় পাম অয়েল উৎপাদন সেপ্টেম্বরের তুলনায় বেশি হতে পারে। রফতানির গতি কিছুটা মন্থর হওয়ায় মজুদের পরিমাণ আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।